বিশেষ প্রতিবেদন :
অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে নিজেদের কমিশন কর্তনের পর বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে অর্থ পাচারকারী চক্রের আরও ০২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)’র সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। সাইবার পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট শাখার একটি চৌকস আভিযানিক দল গত ১২/০৭/২০২৬ খ্রি. নড়াইল জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— ০১। মো. জসিম উদ্দীন (৩৩) (USO, নগদ), পিতা: মো. ওলিয়ার মোল্যা, মাতা: আবেরন বেগম, ঠিকানা: সাং- তুলারামপুর, পোস্ট- তুলারামপুর-৭৫০০, থানা- নড়াইল সদর, জেলা- নড়াইল; এবং ০২। সুমন রায় (২৮), পিতা: সমীর রায়, মাতা: সবিতা রায়, ঠিকানা: সাং- মালিয়াট, ইউনিয়ন- শেখহাটী, পোস্ট- এগারখান-৭৪০৬, থানা- নড়াইল সদর, জেলা- নড়াইল।
০১ নং আসামি মো. জসিম উদ্দীনকে গত ১২/০৭/২০২৬ খ্রি. রাত ২০:৩০ ঘটিকায় নড়াইল সদর থানাধীন রূপগঞ্জ বাজার সংলগ্ন মুচিপোল, সোনাপট্টি রোডে অবস্থিত মো. ওয়াহিদুজ্জামানের বাসার তৃতীয় তলায় অবস্থিত নগদ ডিস্ট্রিবিউশন হাউজ থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাত ২১:০০ ঘটিকায় নড়াইল সদর থানাধীন তুলারামপুর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে ০২ নং আসামি সুমন রায়কে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি একটি বিদেশি অনলাইন জুয়া সাইটের অ্যাডমিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সিপিসি নিয়মিত সাইবার মনিটরিং চলাকালে দেখতে পায় যে, দেশের অভ্যন্তর এবং বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন বেটিং (জুয়া) ওয়েবসাইট সক্রিয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাকে কেন্দ্র করে এবং অনলাইন ক্যাসিনোর মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে বেটিং পরিচালিত হচ্ছে। বেটিং সাইটে ব্যবহৃত বিভিন্ন এজেন্টের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ব্যাংক হিসাবসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ করে সিআইডি বাদী হয়ে পল্টন (ডিএমপি) থানায় মামলা নং-২০, তারিখ: ১৭/০৫/২০২৬ খ্রি., সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২০(২)/২১(২)/২২(২)/২৪(২)/২৭(২)/২৯(২) ধারায় মামলা রুজু করে।
মামলা রুজুর পর সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর তদন্তে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনলাইন বেটিংয়ের এজেন্ট নিয়োগ করে তাদের এমএফএস ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করত এবং সেগুলো বেটিং সাইটে ব্যবহার করত। জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত এজেন্টরা কমিশন কেটে রাখার পর বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে অর্থ পাচার করত বলে তথ্য পাওয়া যায়। মামলার তদন্তে অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্মে ব্যবহৃত বিভিন্ন এজেন্ট নম্বরের সূত্র ধরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত মো. জসিম উদ্দীন ও সুমন রায় নিজেদের নামে নিবন্ধিত এজেন্ট সিম ব্যবহার করে অনলাইন জুয়ার সাইটে সক্রিয় ছিলেন। এছাড়া তারা বিভিন্ন ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত এজেন্ট সিম সংগ্রহ করে চক্রের সদস্যদের কাছে সরবরাহ করতেন। এসব এজেন্ট সিম অনলাইন বেটিং সাইটে অর্থ জমা ও উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত হতো। তদন্তে তাদের জুয়ার ওয়েবসাইট পরিচালনার সম্পৃক্ততার তথ্যও পাওয়া গেছে। গ্রেফতারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক, অবৈধ ই-ট্রানজেকশন, অর্থপাচার কার্যক্রম এবং এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, এ মামলায় পূর্বে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় সিআইডির একটি চৌকস আভিযানিক দল গত ০৭/০৬/২০২৬ খ্রি. টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে অনলাইন জুয়া ও অবৈধ অর্থপাচার চক্রের মো. সোলায়মান (৪৭), মো. সাগর মিয়া (২৮) এবং মো. জুয়েল রানা (৩২)-কে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে গত ১৬/০৬/২০২৬ খ্রি. নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে চক্রের আরও মো. রায়হান খান (২১), মো. পাভেল রহমান ভূঁইয়া (২৩) এবং আবু জোবায়ের সানি (৩৬)-কে গ্রেফতারপূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়।