বিশেষ সংবাদ :
(নজরুল ইসলাম লিখন, রূপগঞ্জ)
“আর্শিবাদের বৃষ্টি এখন আমাগো জন্য অভিশপ্ত। বৃষ্টি আল্লাহর অশেষ রহমতের নেয়ামত। ২ সপ্তাহের বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট তলিয়ে ঘরেও পানি ডুকে গেছে। স¦াভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সাপ বিচ্ছুর ভয়ে শিশুদের নিয়ে ঘরে থাকতেও ভয় লাগে। কাম কাজ বন্ধ, খাওয়া দাওয়াও বন্ধ। গরীবের অইছে যত জ্বালা।” এমনি করে মনে দুঃখে কথাগুলো বলেন মতিন মিয়া।
টানা বৃষ্টিতে রূপগঞ্জের নির্মাঞ্চলের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছ। নিচু এলাকার রাস্তা-ঘাট ও ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে জলাবদ্ধতায় বন্যায় রূপ নিয়েছে।এতে করে শিশু থেকে শুরু করে শতাধিক নারী-পুরুষ ঠান্ডা জনিত ও পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন।জলাবদ্ধয় পানিবন্দী হয়ে শিক্ষার্থীরা স্কুল ও মাদরাসার যেতে পারছেনা। এতে করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে। অনেক স্থানে পানিবদ্ধতায় পুকুরের মাছ ভেসে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন স্থানীয় মাছ চাষীরা।আবাসন কোম্পনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠেছে নিষ্কাশনের খালগুলো ভরাট কওে ফেলায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
সরজমিনে দেখা যায়, উপজেলার নির্মাঞ্চল এলাকা গুলোতে কয়েকদিনের টানা বর্ষণে এ জলাবদ্ধতা ˆতরি হয়েছে। উপজেলার বৈরাগবারীর টেক, কাঞ্চন, কালাদি, নলপাথর, কুশাব, আইতলা, ডুলুরদিয়া,তারাবো, বরপা, নাগেরবাগ, বৌবাজার, কান্দাপাড়া, বলাইখা, বিজয়নগর, মদিনানগর, দক্ষিণপাড়া, তেঁতলাবো, শান্তিনগর, বাগানবাড়ি, মাসাবো, যাত্রামুড়া, মাঝিপাড়া, পাচাইখা ও ইসলামপুরসহ আশপাশের এলাকায় এখন জলাবদ্ধতা ˆতরি হয়েছে। মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।বাড়ির উঠোনেই পানি হাঁটু পরিমাণ। অনেকের বসত ঘরে ২-৩ ফুট পানি। রাস্তা ঘাট তলিয়ে গেছে। কোনও কোনও স্থানে নলকূপ পানিতে তলিয়ে গেছে। সেসব এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব। এ ছাড়া শিল্প-কারখানার নির্গত কেমিক্যাল ও দুর্গন্ধযুক্ত কালো পানির দূষণে রোগাক্রান্ত হচ্ছেন বিভিন্ন বয়সের মানুষ।
অতিকষ্টে চলছে নিম্নআয়ের মানুষের জীবন। কারখানার নির্গত বর্জ্য জলাবদ্ধ পানিতে মিশে কুচকুচে কালো রঙ ধারণ করেছে। এ পানিতে হাঁটাচলা করতে গিয়ে মানুষ চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছে। পানির কীট-পতঙ্গসহ মাছ মরে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আবাসন কোম্পানী কর্তৃক পানি নিষ্কাশনের খালগুলো অবৈধভাবে দখল ও ভরাটের কারণে বৃষ্টি হলেই এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
গৃহিণী আয়মান জাহান বলেন, চুলায় আগুন জ্বালাতে পারি না। বিশুদ্ধ পানি নেই। বাড়িঘরে হাঁটুসমান পানি উঠেছে। জলাবদ্ধতার কারণে বাড়ির অনেক ভাড়াটিয়া এ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। ঠান্ডা,সর্দি, চর্ম ও পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ দেখা দিয়েছে।
শামিম বলেন, এখানে নিচু জমির মূল্য তুলনামূলক কম। এতে নিন্ম আয়ের মানুষজন এসব এলাকায় জমি কিনে বসতি গড়েছেন। প্রতিবছর বর্ষার এ সময়টাতে তারা ভোগান্তিতে পড়েন। খাল দখল দূষণের সৃষ্ট জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে তাদের এ দুর্দশা আরো অনেকগুণ বাড়িয়ে দেয়। জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত প্রদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।
আক্তার হোসেন বলেন, ১৪-১৫ বছর ধরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে| সামান্য বৃষ্টি হলেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়| পানির সঙ্গে যুদ্ধ করে আমাদের বেঁচে থাকতে হচ্ছে|
বৈরাগবাড়ীর ছাইদুর বলেন, অল্প বৃষ্টি হলেই আমাদের রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়| আমাদের খাল নেই, খাল গুলো বিভিন্ন প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান দখল করে রেখেছে| এতে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে স্থায়ী জলাবদ্ধতা রূপ নিচ্ছে|
রূপগঞ্জ উপজেলা ¯^াস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাদল কুমার সাহা বলেন, ইদানিং চর্ম ও পানিবাহিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে| আমরা তাদের চিকিৎসা ও ওষুধপত্র দিচ্ছি| তবে, ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি থেকে সকলকে সাবধান থাকতে হবে|
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টি কমলে সরজমিনে পর্যবেক্ষন করে দেখি কিভাবে এ অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
স্থানীয় সংসদ মোস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া বলেন, এ বহুদিনের পুরানো সমস্যা। বৃষ্টি সারলে ইঞ্জিনিয়রকে নিয়ে দেখব কিভাবে এ সমস্যা থেকে জনগণকে মুক্তি দেয়া যায়। আশা করি খুব দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান করতে পারব।