বিশেষ প্রতিবেদন :
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশে আজ মঙ্গলবার (২০ জুলাই ২০২৬) দিনব্যাপী ‘ক্যারিয়ার সামিট চট্টগ্রাম জব ফেয়ার ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জব ফেয়ারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। এসময় উপস্থিত ছিলেন চবি মাননীয় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন, চাকসুর ভিপি ইব্রাহীম হোসেন রনি, জিএস সাঈদ বিন হাবিবসহ অন্যান্য প্রতিনিধিবৃন্দ। উদ্বোধনী পর্ব শেষে চবি ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ অডিটোরিয়ামে ক্যারিয়ার সামিট বক্তৃতা পর্বে অংশ নেন মাননীয় উপাচার্যসহ অতিথিবৃন্দ। বিকাল ৫টায় একই জায়গায় জব ফেয়ারের সমাপনীতে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান ও মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম।
মাননীয় উপাচার্য বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন শেষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, এখান থেকে আমাদের শিক্ষার্থীরা চাকরি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা নিতে পারবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা সরাসরি সিভি প্রদানের মাধ্যমে চাকরিতে যুক্ত হতে পারবে। এছাড়া শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কোম্পানির সাথে সংযোগ ও নেটওয়ার্কিং স্থাপন করতে হবে। এটা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুবর্ণ সুযোগ।
ক্যারিয়ার সামিট বক্তৃতা পর্বে মাননীয় উপাচার্য বলেন, একজন শিক্ষার্থীর সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো নিজেকে দক্ষ ও যোগ্য মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা। বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ডিগ্রি প্রদান করে না, বরং এমন দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরি করে, যারা কর্মক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারে। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন দক্ষতা অর্জন, সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং ব্যক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, চাকরির ক্ষেত্রে একটি সুন্দর ও মানসম্মত জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) একজন প্রার্থীর প্রথম পরিচয়। একজন নিয়োগদাতা সিভির মাধ্যমেই প্রার্থীর একাডেমিক অর্জন, ব্যক্তিত্ব, দক্ষতা এবং নিজেকে উপস্থাপনের সক্ষমতা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা লাভ করেন। তাই সিভি এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে, যাতে তা নিজের যোগ্যতা ও সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে তুলে ধরে। তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান এবং শিক্ষার্থীদের জন্য শুভ কামনা জানান।
উদ্বোধনী পর্বে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, আজকের উদ্যােগটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নানাভাবে উপকৃত হবে। এজন্য চাকসুসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানান তিনি। তিনি সঠিকভাবে সিভি লেখার ক্ষেত্রে দক্ষ হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সমাপনী পর্বে বক্তব্যে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, চাকসু একের পর এক উদ্ভাবনী, সৃজনশীল ও শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যােগ নিচ্ছে। এ জব ফেয়ারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন গ্রুপ-কোম্পানির সাথে পরিচয় হতে পারবে এবং নেটওয়ার্কিং গড়ে তুলতে পারবে। এতে শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গড়ার দারুণ সুযোগ তৈরি হবে। এমন আয়োজনের জন্য উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) চাকসু এবং সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।
সমাপনী পর্বে আরও বক্তব্য রাখেন চবি ছাত্র-ছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক প্রফেসর ড. মো. আনোয়ার হোসেন ও চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন চাকসুর গবেষণা ও উদ্ভাবন বিষয়ক সম্পাদক তানভীর আঞ্জুম শোভন ও অনুষ্ঠানের ক্লাব কো-অর্ডিনেটর অঙ্কিতা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং সরাসরি নিয়োগদাতাদের সাথে কর্পোরেট জগতের সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে এ মেলার আয়োজন করা হয়। এতে দেশের শীর্ষস্থানীয় কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব ও মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞরা ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, নেতৃত্ব, দক্ষতা উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রের প্রস্তুতি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক সেশন পরিচালনা করেন।
আয়োজকরা জানান, দিনব্যাপী আয়োজিত এই মেলায় দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান, শিল্প গ্রুপ, ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত, আইটি ও শিক্ষা পরামর্শক সংস্থাসহ নানা সেক্টরের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। স্নাতক সম্পন্ন করা তরুণ চাকরিপ্রার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীরা মেলা প্রাঙ্গণে এসে স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর বুথে সরাসরি তাদের জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) জমা দেওয়ার সুযোগ পান। একই সাথে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে ক্যারিয়ার গঠন ও সমকালীন বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নিজেদের প্রস্তুত করার বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক আলোচনার সুযোগ পান তারা। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের বিপুল পরিমাণ শিক্ষার্থী অংশ নেন।