বিশেষ প্রতিবেদন :
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা পরিচালনা ও প্রকাশনা দপ্তরের উদ্যােগে বিজ্ঞান ও ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের শিক্ষক ও গবেষকদের অংশগ্রহণে রিসার্চ ওয়ার্কশপ আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বেলা ১১টায় চবি ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ কনফারেন্স কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন এবং মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সালেহ্ জহুর ও ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ সানাউল্লাহ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রিসার্চ অ্যান্ড পাবলিকেশন সেলের পরিচালক প্রফেসর ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চবি মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের আমরা শুধু গ্র্যাজুয়েট হিসেবে নয়, দক্ষ ও মানসম্পন্ন মানবসম্পদ হিসেবে তৈরি করতে চাই। একজন শিক্ষক হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব হলো—আমাদের শিক্ষার্থীদের এমন মানসম্পন্ন করে গড়ে তোলা, যাতে তারা শুধু বাংলাদেশে নয়, বৈশ্বিক কর্মবাজারেও নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারে। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। আবার এটিই আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জও। আমরা যদি নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে না পারি, প্রযুক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারি, তাহলে একসময় প্রযুক্তিই আমাদের কাজকে প্রতিস্থাপন করতে পারে। গবেষণার ফলাফল যেন শুধু একটি জার্নালে সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং সেটি যেন বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করা যায়।
মাননীয় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বলেন, আমরা আগামী দিনে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেশান আরও শক্তিশালী করতে চাই। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বাস্তব সমস্যাগুলো আমাদের কাছে তুলে ধরবে, আর আমাদের গবেষকরা সেই সমস্যার সমাধান বের করবেন। এর মাধ্যমে গবেষণার বাস্তব প্রয়োগ যেমন বাড়বে, তেমনি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতেও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারবে। এক্ষেত্রে সকলের মনযোগী হওয়া দরকার।
মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, তরুণ শিক্ষকদের জন্য নিয়মিত গবেষণা পদ্ধতিবিদ্যা, গবেষণা প্রস্তাবনা লেখা, গবেষণায় নৈতিকতা, তথ্য বিশ্লেষণ এবং একাডেমিক লেখা বিষয়ে কর্মশালা ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করা প্রয়োজন। কারণ একজন শিক্ষক যখন গবেষণার পদ্ধতি বুঝবেন, একটি ভালো গবেষণা প্রস্তাব লিখতে পারবেন এবং গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করতে পারবেন, তখন তাঁর মধ্যে গবেষণার প্রতি আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাস তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ। ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এই কর্মশালায় দুই অনুষদের শিক্ষক ও গবেষকগণ অংশ নেন। কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মানোন্নয়ন, আন্তর্জাতিক মানের জার্নালে প্রকাশনা বৃদ্ধি এবং যুগোপযোগী গবেষণা পরিচালনার কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।