বিশেষ প্রতিবেদন :
আন্তর্জাতিক গুমের শিকার ব্যক্তিদের দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গুমের শিকার ও জীবিত ভুক্তভোগী আব্দুল কাইয়ুম মিঠু দেশে আর কখনো যেন কেউ গুমের শিকার না হন, সেই জোরালো দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি গুমের ঘটনার সত্য উদঘাটন, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠান ও আয়োজক
তারিখ: ৩০ আগস্ট, শনিবার।
আয়োজক সংস্থা: Voice of Enforced Disappeared Persons (VOED) ও United for Victims of Enforced Disappearances (UVED)।
বক্তা: আব্দুল কাইয়ুম মিঠু (গুমের শিকার ও জীবিত ভুক্তভোগী, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী)।
মিঠুর ব্যক্তিগত গুমের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা
প্রথম দফা গুম (২০১৭): ১৭ সালের ১০ এপ্রিল রামপুরা থেকে সাদা পোশাকধারী ও নিজেদের প্রশাসনের সদস্য পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা তাকে তুলে নেয়। তিনি র্যাব-১১-এর তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তা আলেপ উদ্দিনের নাম উল্লেখ করেন। ২৩ দিন তাকে প্রায় ৩/৬ ফুট আয়তনের টয়লেটে রেখে অমানবিক নির্যাতন করা হয়। পরে ফৌজদারি মামলা দিয়ে তাকে নারায়ণগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়।
দ্বিতীয় দফা গুম (২০১৭): জামিন পাওয়ার পর ২০১৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর কারাগারের গেট থেকে তাকে আবার তুলে নেওয়া হয় এবং প্রায় তিন মাস গুম করে রাখা হয়।
দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি: মামলা, আটক ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে তার জীবনের প্রায় তিন বছর কেটে যায়। শিক্ষা, পেশা, ব্যবসা ও পারিবারিক জীবন ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় তিনি ও তার পরিবার প্রায় ৩ কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখোমুখি হন।
মূল দাবি ও প্রস্তাবনা
স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন: জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬-এর খসড়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি একে সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত, স্বাধীন ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানান। নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ স্বাধীনভাবে তদন্তের ক্ষমতা কমিশনের থাকতে হবে।
ভয়ভীতি দূরীকরণ: খসড়ার ২১ ধারায় মিথ্যা অভিযোগের জন্য পাঁচ বছর শাস্তির বিধান যেন প্রকৃত ভুক্তভোগী ও পরিবারগুলোকে ভয় দেখানোর হাতিয়ার না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করেন তিনি।
প্যারিস নীতিমালা অনুসরণ: কমিশনার নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এবং পুরো আইনকে প্যারিস নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার দাবি জানান।
ইনসাফ ও ন্যায়বিচার: গুমের শিকার ব্যক্তিদের পাশাপাশি সব মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা শত্রুর সাথেও ইনসাফ চাই। আমরা চাই কোনো ফৌজদারি অপরাধের অভিযুক্ত ব্যক্তিও যাতে গুম না হন।”
অনুষ্ঠানে তিনি গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ করার পাশাপাশি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।